ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মেহতাব খানম। তিনি আপনার মানসিক বিভিন্ন সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান দেবেন। অল্প কথায় আপনার সমস্যা তুলে ধরুন।—বি. স.
সমস্যা
আমার বয়স ২৩ বছর। স্নাতকোত্তর পড়ার পাশাপাশি একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরি করি। আমি একসময় খুব শান্ত প্রকৃতির ছিলাম। সে সময় প্রেম করাকে একটুও পছন্দ করতাম না। সব সময় নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবতাম। কিন্তু আমি এখন অনেক বদলে গেছি। আমি এখন বেশ কয়েকজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছি। তাদের সঙ্গে সময় দিতে গিয়ে নিজের অনেক ক্ষতির পাশাপাশি তাদেরও ক্ষতি করছি। আমি জানি, আমি তাদের কাউকে বিয়ে করব না। আমি এখান থেকে নিজেকে বের করে আনার অনেক চেষ্টা করছি। কিন্তু পারছি না। তাদেরও কিছু বলতে পারছি না।
আমি এ কারণে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। আমার পরিবারকে বিষয়টি বলার মতো পরিবেশ নেই।
আমি তাদের কোনো ক্ষতি করতে চাই না। আমি আমার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে চাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, পাবনা।
পরামর্শ
তুমি লিখেছ, আগে ভদ্র ও শান্ত ছিলে। প্রেম করাকে অপছন্দ করতে। তখন তুমি যাদের প্রেম করতে দেখেছ, তাদের কি তোমার অভদ্র মনে হতো? কারও প্রতি প্রেমের অনুভূতি তো হতেই পারে। সেটির মধ্যে পবিত্রতা ও সৌন্দর্যও রয়েছে। তুমি যদি আগে অত্যন্ত আন্তরিক, সুস্থ ও বন্ধুসুলভ মনোভাব নিয়ে কারও সঙ্গে সম্পর্কিত হতে, তাতে হয়তো তোমার সামাজিক ও জীবনদক্ষতা দুটোই অনেক বাড়ত। কারও সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক হলে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ থাকে। আবার সম্পর্কে টানাপোড়েন হলে আমরা ব্যর্থতার অনুভূতিকে সামলে নেওয়ার ক্ষমতাও অর্জন করি। এ ছাড়াও নৈতিক মূল্যবোধটি মাথায় রেখে সম্পর্কটির প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও বিশ্বস্ত থাকার চর্চাটিও হয়। তুমি খুব দৃঢ়ভাবে কারও সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার সুপ্ত ইচ্ছেটিকে হয়তো সরিয়ে রেখেছ। এরপর কোনো একটি সময়ে নিজেকে সেই সংকল্প থেকে মুক্ত করে একটু বেশিই অনুমতি দিয়ে দিয়েছ। যে কারণে এখন তুমি কয়েকটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছ। সম্পর্কের ক্ষেত্রে তোমার প্রবল আকর্ষণ কাজ করছে। অথচ তুমি যাদের সঙ্গে জড়িয়েছ, তাদের কারও প্রতিই সত্যিকার অর্থে অনুরক্ত নও। একধরনের খেলায় তুমি নিজেকে মনে হয় মাতিয়ে রেখেছ। তবে এখন যে তোমার মধ্যে নিজেকে এই অসুস্থ চর্চাটি থেকে মুক্ত করার ইচ্ছেটি তৈরি হয়েছে সেটিকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই। আমি তোমাকে অনুরোধ করব, মনের সঙ্গে বোঝাপড়া করে এই মেয়েদের তুমি সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে বলে দাও যে তাদের প্রতি খুব বড় একটি অন্যায় করেছ। এর জন্য যদি তুমি ওদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা কর, তাহলে খুব ভালো হয়। এতে করে মন থেকে অনেক বড় একটি অপরাধবোধের বোঝা নামিয়ে ফেলা সম্ভব হবে। এরপর যদি একই সঙ্গে নিজেকে ক্ষমা করে সৃষ্টিকর্তার কাছেও ক্ষমা চাও তাহলে আরও ভালো হয়। পরিবারের সঙ্গে তোমার দিক থেকে উদ্যোগ নিয়ে কিছুটা হলেও সম্পর্কের আরও উন্নয়ন ঘটানোর চেষ্টা কর। এর ফলে বাইরের মানুষের সঙ্গে এ ধরনের অশ্রদ্ধামূলক ও হালকা সম্পর্ক তৈরির প্রবণতা হ্রাস পেতে পারে। যে সময়গুলোতে তুমি মেয়েদের সঙ্গে কথা বল বা সময় কাটাও সেই সময়ে অন্য কোনো সুস্থ বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা কর। এ ছাড়াও তোমার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য যে কাজগুলো করা দরকার, সেগুলো ধীরে ধীরে শুরু কর। যদি নিজের মধ্যে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাও, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে উত্সাহিত বোধ করে স্বপ্ন পূরণের জন্য আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হও।
- Blogger Comment
- Facebook Comment
Subscribe to:
Post Comments
(
Atom
)
0 comments:
Post a Comment