ডায়রিয়া হলে যা করবেন না




যেকোনো বয়সী মানুষই ডায়রিয়ায় ভুগতে পারেন। কিছু বিষয় খেয়াল রাখলেই সাধারণত ডায়রিয়ার ফলে তেমন কোনো জটিল সমস্যা হয় না। তবে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
জেনে নিন ডায়রিয়া হলে কী করা যাবে না
স্বাভাবিক খাবারদাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকা উচিত নয়। স্বাভাবিক খাবার না খেলে সহজেই শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে ডায়রিয়ার সঙ্গে বমি থাকার ফলে একেবারেই খেতে না পারলে হাসপাতালে নিয়ে স্যালাইন দেওয়া লাগতে পারে।
ডায়রিয়ার রোগীদের পর্যাপ্ত পানি ও লবণ গ্রহণের ব্যাপারে অবহেলা করা উচিত নয়। ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। তাই স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি তরল খাবার খেতে হবে এ সময়। স্যালাইন, ডাবের পানি, তাজা ফলের রস, স্যুপসহ যেকোনো তরল খাবার ডায়রিয়া রোগীর জন্য ভালো।
ডায়রিয়া বন্ধ করার ওষুধ সেবন করবেন না। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ওষুধ ব্যবহারের ফলে শিশুদের অন্ত্রনালি পেঁচিয়ে গিয়ে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন করবেন না। জীবাণুর সংক্রমণের ফলে পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলেও সব ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না।
ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের সাবান দিয়ে হাত না ধুয়ে খাদ্যদ্রব্যে হাত দেওয়া উচিত নয়। ডায়রিয়ার জীবাণু সহজেই অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। নখের নিচ ও আঙুলের ফাঁকের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। দুই হাত কবজি পর্যন্ত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। পায়খানার পরেও ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে।
রোগীর মুখ শুকিয়ে গেলে, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে, ঘন ও গাঢ় হলুদ বা লালচে রঙের প্রস্রাব হলে, নিস্তেজ হয়ে পড়লে কিংবা অজ্ঞান হয়ে গেলে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেরি করবেন না। পায়খানার সঙ্গে পুঁজ পড়লে, দীর্ঘদিন ডায়রিয়া থাকলে, পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে কিংবা কিছুদিন পরপরই ডায়রিয়া হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ডা. রাফিয়া আলম
মেডিসিন বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: খুব বেশি উঁচু হিলের জুতা পরলে কি শরীরের কোনো ক্ষতি হয়?
খুব বেশি উঁচু হিলের জুতা পরে হাঁটার ফলে পায়ে, হাঁটুতে কিংবা কোমরে ব্যথা হতে পারে। ওজন বেশি হলে এসব সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। হাঁটার সময় হঠাৎ পা মচকেও যেতে পারে।
অধ্যাপক সোহেলী রহমান
বিভাগীয় প্রধান, ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল


Share on Google Plus

About WARAJ

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment