ভাদ্রের গরম কেন ভ্যাপসা?




ভাদ্র মাসে এ দেশে শরতের কাশ ফুলে ছেয়ে যায় নদীর তীর, বিলের ধার। সাদা এই কাশফুল সৌন্দর্যপিপাসুদের মনে দোলা দেয়। এ সময় কখনো টানা, কখনোবা দু-এক পশলা বৃষ্টি হয়। কখনো ঝিরিঝিরি মিষ্টি বাতাস বয়ে যায়, কখনোবা পড়ে ভ্যাপসা গরম। গাছপালা কম থাকায় শহরাঞ্চলে ভ্যাপসা গরমের মাত্রা আরও বেশি থাকে।

ভাদ্র মাসে শুরু হওয়া ভ্যাপসা গরম আশ্বিন, অর্থাৎ শরৎকালের মাঝামাঝি পর্যন্ত থাকে। এ সময়ের এই গরমের কারণ কী?

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বাতাসে জলীয় বাষ্প এর মূল কারণ। বৈশাখ থেকে জ্যেষ্ঠ মাসে বাংলাদেশে কখনো কখনো কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি পর্যন্ত উঠে যায়। কিন্তু বাতাসে জলীয় বাষ্প কম থাকায় মানুষের শরীর থেকে ঘাম কম বের হয়। শরৎকালে, অর্থাৎ ভাদ্র-আশ্বিনে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠা-নামা করে। তারপরও বাতাসে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকায় গরম বেশি অনুভূত হয়। তাই অস্বস্তি বেড়ে যায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, বৈশাখে তাপমাত্রা বেশি, কিন্তু বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে। অন্যদিকে, ভাদ্র-আশ্বিন মাসে তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকলেও বাতাসে জলীয় বাষ্প খুব বেশি থাকে। তাই শরীর ঘেমে যায়। এই ঘাম না শুকালে গরম বেশি অনুভূত হয়। অস্বস্তি বাড়ে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ শাহ আলম আরও বলেন, ভাদ্র মাসে আকাশে মেঘ থাকে। দিনের বেলা সূর্যের তাপ মেঘের বাধার কারণে ওপরে উঠতে পারে না। সব মিলিয়ে গরম সহজে কমতেও চায় না।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, যশোর, ময়মনসিংহ ও সিলেটের ওপর মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এসব এলাকায় বৃষ্টিও কমে গেছে। তবে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা ও রাজশাহী অঞ্চলে বৃষ্টি হওয়াতে গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কিছুটা স্বস্তি মেলে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ রাশেদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, এ সময়ের প্রকৃতির ধরন এমনই হয়ে থাকে। বঙ্গোপসাগর থেকে সৃষ্ট জলীয় বাষ্প বাতাসে থাকে। বেশি গরম পড়লে আবার বৃষ্টি হয়।

আজ শনিবার সকালেও রাজধানীতে টিপটিপ বৃষ্টির দেখা মিলেছে।


Share on Google Plus

About WARAJ

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment