নাম তাঁর জাহাঙ্গীর। জন্ম রাজবাড়ী জেলায়। স্বাধীনতার পর বাবার হাত ধরে ঢাকায় আসেন তিনি। বাস করেন পশ্চিম আগারগাঁওয়ের ষাট ফুট রোড এলাকায়। ঢাকায় এসে সুখ-দুঃখের অনেক স্মৃতি তাঁর অভিজ্ঞতার ঝুড়িতে জমা হয়েছে।
বোধ জাগ্রত হওয়ার পর থেকে যখনই আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষের সভা-সমাবেশ হয়েছে এই মানুষটি অংশ নিয়েছেন। আজ ১০ জানুয়ারি মঙ্গলবারও এসেছিলেন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের জনসভায়।
নিজের টাকায় কাঠ দিয়ে তৈরি করেন কামান। তা ভ্যানে সাঁজিয়ে নিয়ে আসেন জনসভায়। কামানের ওপর রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বুকে জড়িয়ে রাখা হাস্যোজ্জ্বল শেখ হাসিনার ছবি। সেখানে রাখেন জাতীয় পতাকা। পুরো কামানটি সাজান জাতীয় পতাকার রঙে। রাখেন একটি রেডিওসদৃশ বস্তুও। বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ-পাগল এই জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কথা হয় এনটিভি অনলাইনের।
জাহাঙ্গীর বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি অনেক ছোট ছিলাম। মুক্তিযুদ্ধ করিনি। তবে যুদ্ধের নিষ্ঠুরতা দেখেছি। সেই বীভৎস দৃশ্য অন্যের সামনে তুলে ধরতে পারাই আমার সার্থকতা।’
জাহাঙ্গীরের ভাষ্য, আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে নব্বইয়ে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধও হয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্জাকের মৃত্যুর পর এসব ত্যাগের কথা কেউ জানতে চায়নি তাঁর কাছে। কিন্তু এতে কোনো ক্ষোভ বা অভিমান নেই। কারণ, তিনি পাওয়ার আশায় কিছু করেন না।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কখনো দেখেননি। তাই তাঁর অনুসারী প্রয়াত নেতা আবদুর রাজ্জাকের শেষ শয্যায় মাটি দিতে পারাকে জীবনের পরম পাওয়া বলে মনে করেন জাহাঙ্গীর। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের যেকোনো বড় জনসভায় থাকতে পেরে অনেক ভাগ্যবান মনে করেন তিনি।
জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এসব কাজ দেখে অনেকেই আমাকে পাগল বলে। আমি তাতে কিছু মনে করি না। সারা জীবন বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ-পাগল হয়েই কাটিয়ে দিতে চাই।’
নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘স্বাধীনতার পর কোনো রাজনৈতিক সংগঠনে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন হয়নি। তবু রাজনীতি করতে হবে। কারণ রাজনীতি তো মানুষের জন্য। রাজনীতির বাইরে কোনো মানুষ নাই। রাজনীতি ছাড়া মানুষের ভাগ্য বদলায় না। আমি যে এখানে সেখানে পাগলের মতো ঘুরে বেড়াই, সেটাও তো রাজনৈতিক ভাবনা।’
0 comments:
Post a Comment